ব্লগ পোষ্ট

বিভিন্ন তথ্যের আপডেট পেতে ব্লগ পোষ্ট ফলো করুন।

ইসলামে নারী পুরুষের অর্ধেক সম্পত্তি পায় কেন?

ইসলামে নারী পুরুষের অর্ধেক সম্পত্তি পায় কেন?

অভিযোগ করে থাকেন যে, ইসলাম অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নারীদেরকে ঠকিয়েছে। কারণ, উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে নারীদের অংশ পুরুষের অর্ধেক দেয়া হয়েছে। যেমন মেয়েকে ছেলের অর্ধেক এবং স্ত্রীকে স্বামীর অর্ধেক অংশ দেয়া হয়েছে।

জেনে রাখা আবশ্যক যে, আমাদের স্রষ্টা মহান আল্লাহ অত্যন্ত প্রজ্ঞাবান। তাঁর কোনো কাজই প্রজ্ঞার বাইরে নয়। উত্তরাধিকার বন্টনের ক্ষেত্রে কাকে কতটা দিলে ইনসাফ ও প্রজ্ঞাপূর্ণ হবে, তা তিনিই সবচেয়ে ভালো জানেন। আমরা স্বল্প জ্ঞানের অধিকারী হওয়ার কারণে অনেক সময় আাল্লাহর প্রজ্ঞাপূর্ণ ফায়সালা বুঝতে পারি না। উত্তরাধিকার বন্টনে কোনো কোনো ক্ষেত্রে নারীদেরকে পুরুষের অর্ধেক দেওয়া হয়েছ। এটা নারিদের প্রতি কোনো অবিচার নয়, বরং আল্লাহ ইনসাফের ভিত্তিতেই তা দিয়েছেন। কারণ তিনি সর্বোত্তম ফায়সালাকারী এবং সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়। 

উত্তরাধিকার বন্টনের বিষয়ে লক্ষ করলে দেখা যায়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে নারীকে পুরুষের অর্ধেক দেওয়া হয়েছ, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের অংশ সমানও দেওয়া হয়েছে। যেমন মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকলে পরিত্যক্ত সম্পদে পিতা এবং মাতা উভয়েরই অংশ সমান অর্থাৎ এক ষষ্ঠাংশ দেওয়া হয়েছে। আবার বৈপিতৃয় ভ্রাতা-ভগ্নিগণকেও উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে সমান অংশ দেওয়া হয়েছে।

উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে যেখানে নারীকে পুরুষের অর্ধেক অংশ দেওয়া হয়েছে অবশ্যই সেটা ন্যায় সঙ্গত ও যৌক্তিকভাবেই দেওয়া হয়েছে। কারণ, 

১। সাধারণত পিতার সংসারের আয়- উপার্জনে পিতার সঙ্গে ছেলেরা শ্রম দিয়ে থাকে। কৃষিকাজ, ব্যবসা বা অন্য কোনভাবে ছেলেরাও প্রত্যক্ষভাবে পিতার সম্পদ অর্জনে সহযোগিতা করে থাকে। কিন্তু মেয়েরা পিতার সম্পদ অর্জনে প্রত্যক্ষভাবে তেমন কোন ভূমিকা পালন করেনা। শ্রম দিয়ে যারা পিতার সম্পদ অর্জনে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করে, পিতার পরিত্যক্ত সম্পদে তাদের অংশ বেশি হওয়াই স্বাভাবিক কারণ পিতার পরিত্যক্ত সম্পদে তাদের উপার্জিত সম্পদও রয়েছে।

২. পিতা-মাতা যখন বৃদ্ধ বয়সে উপনীত হয়, তখন তাদের দেখাশুনা ও ভরণ-পোষণের ভার ছেলেদেরকেই বহন করতে হয়। মেয়েদেরকে এর কোন দায়-দায়িত্ব বহন করতে হয়না। পিতা-মাতার ব্যয়ভার যাদেরকে বহন করতে হয়, তাদেরকে পিতা-মাতার পরিত্যক্ত সম্পদ হতে বেশি প্রদান করাই ইনসাফের দাবী।

৩. বিবাহের পূর্বে মেয়েদের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব পালন করেন পিতা, দাদা, ভাই বা চাচা। আর বিবাহের পর তার ভরণপোষণ করে থাকেন স্বামী। কিন্তু ছেলেরা বয়ঃপ্রাপ্ত হওয়ার পর নিজেরা উপার্জন করে জীবন যাপন করে এবং বিবাহ করে নিজের ভরণপোষণের পাশপাশি স্ত্রী, সন্তান ও পরিবারের অন্য সদস্যদেরও ভরনপোষণ করে থাকেন। এমতাবস্থায় কোন বিবেকবান ব্যক্তি একথা বলতে পারে যে, এ উভয়ের অংশ সমান হওয়া উচিৎ?

৪. একটি ছেলে এবং একটি মেয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে স্বামী-স্ত্রীতে পরিণত হয়। বিবাহের সময় ছেলেকে আবশ্যিকভাবে স্ত্রীকে একটি বিশেষ অংক মহর হিসেবে প্রদান করতে হয়। কিন্তু মেয়েকে এ ক্ষেত্রে কিছুই ব্যয় করতে হয়না। ধরুন, পিতার সম্পদ হতে ছেলে দ্বিগুণ হিসেবে ৪০০০০/ টাকা পেল, আর মেয়ে পেল তার অর্ধেক ২০০০০/ টাকা। বিবাহের সময় ছেলে তার প্রাপ্ত অংশ থেকে স্ত্রীর মহর হিসেবে ২০০০০/ টাকা প্রদান করল। ফলে তার অবশিষ্ট থাকল ২০০০০/ টাকা। অপরদিকে মেয়ে বিয়ের সময় মহর হিসেবে স্বামীর নিকট হতে ২০০০০/ টাকা পেল। এখন দেখা যাচ্ছে যে, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ছেলের সম্পদ কমে ৪০০০০/ টাকা থেকে ২০০০০/ টাকা হয়েছে। পক্ষান্তরে মেয়ের উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ২০০০০/ টাকার সঙ্গে মহর ২০০০০/ টাকা যোগ হয়ে ৪০০০০/ টাকায় উন্নীত হয়েছে।

 

৫. স্বামী-স্ত্রীর ব্যাপারটি পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, সাধারণত: স্বামীর সম্পদ থাকে বেশি এবং স্ত্রীর সম্পদ থাকে কম। ফলে স্বামী স্ত্রীর দ্বিগুণ অংশ পাওয়া স্বত্ত্বেও স্ত্রীর সম্পদ হতে যা পায়, স্ত্রী স্বামীর অর্ধেক অংশ পাওয়ার পরও স্বামীর সম্পদ হতে স্ত্রীর প্রাপ্ত অংশ হয়ত স্বামীর প্রাপ্ত অংশের সমান বা কোন কোন ক্ষেত্রে বেশি হওয়াও অস্বাভাবিক নয়। শুধু অংশ হিসেবে দ্বিগুণ বা অর্ধেক পাওয়ার দিকটি দেখলেই হবেনা, প্রকৃতপক্ষে কে কি পরিমাণ সম্পদ পেল সেটাও দেখার বিষয়। অধিকন্তু স্ত্রী দু দিক থেকে সম্পদের অংশ পেয়ে থাকে। এক. পিতা-মাতার সম্পদ হতে এবং দুই. স্বামীর সম্পদ হতে। তাছাড়া-

৬. মানব সমাজে পরিবারের রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার সার্বিক দায়-দায়িত্ব পুরুষের উপর ন্যস্ত। আর এ দায়িত্ব তার উপর অর্পিত হয়েছে স্বাভাবিকভাবে এবং দুটি কারণে:

এক, স্বভাবগত সামর্থ ও মর্যাদার কারণে। দুই, সংসারের সকল ব্যয়ভার বহনের দায়িত্বের কারণে। এ প্রসঙ্গে কুরআন কারীমে আল্লাহ তা আলা বলেন,

الرِّجَالُ قَوَّامُونَعَلَى النِّسَاءِبِمَا فَضَّلَاللهُ بَعْضَهُمْعَلَى بَعْضٍوَبِمَا أَنْفَقُوامِنْ أَمْوَالِهِمْ

পুরুষরা হচ্ছে নারীদের রক্ষণাবেক্ষণকারী; আল্লাহ মানব সমাজের কতককে অন্য কতকের উপর যে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন তার কারণে এবং তারা তাদের সম্পদ হতে যে ব্যয়ভার বহন করে থাকে তার কারণে।

আদিকাল থেকেই মানব সমাজে এ নিয়ম প্রচলিত আছে যে, পরিবারের রক্ষণাবেক্ষণ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পুরুষের উপর ন্যস্ত। এ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুরুষকে এর সার্বিক ব্যয়ভারও বহন করতে হয়। স্ত্রীসহ পরিবারের সকলের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করা, খাবার ও পোষাকের ব্যবস্থা করা, কেউ অসুস্থ হলে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, আত্মীয় ও অতিথিবৃন্দের আপ্যায়ন ও আতিথেয়তার ব্যবস্থা করা, ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখার ব্যয়ভার বহন করাসহ সংসারের যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ করতে হয় পুরুষকে। এ সকল ক্ষেত্রে নারীদেরকে কোন দায়িত্বই দেয়া হয়নি। এর ফলে নারীর সম্পদ হ্রাস না পেয়ে সঞ্চিত থাকে অথবা বৃদ্ধি পায়। পক্ষান্তরে পুরুষের সম্পদ হতে প্রতিনিয়ত একটি বড় অংশ ব্যয় হয়ে যায়। ব্যয় নির্বাহের সকল দায়িত্ব পুরুষের ঘাড়ে চাঁপিয়ে দিয়ে উত্তরাধিকার বন্টনের ক্ষেত্রে যদি নারী ও পুরুষকে সমান অংশ দেয়া হতো, তাহলে সেটা হতো চরম অন্যায়মূলক ব্যবস্থা।

ধরুন, আপনার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বড় ছেলের তিন সন্তান, ছোট ছেলের এক সন্তান এবং মেয়েটিকে বিয়ে দিয়েছেন। এমতাবস্থায় তাদের ভরন পোষণের দায়িত্ব যদি আপনার উপর অর্পিত হয়, তাহলে আপনি কি করবেন। আপনি কি এ তিন সন্তানের ভরন-পোষণের খরচ সমান দেবেন। যদি সমান দেন, তাহলে সুবিচার হবে না। বরং সুবিচার হলো, প্রত্যেককে তার প্রয়োজন অনুসারে দেওয়া। যার তিন সন্তান তাকে বেশী দিতে হবে, যার এক সন্তান তাকে তার অর্ধেক দিলেই চলবে। আর মেয়েকে যেহেতু বিয়ে দিয়েছেন, তার ভরন-পোষণের দায়িত্ব তার স্বামীর; সুতরাং তাকে না দিলেও চলবে। এখন কেউ যদি বলে যে, ভরন-পোষণের খরচ তিন জনকেই সমান দিতে হবে, তাহলে তা সুবিচার হবে না। এ ধরনের বাস্তবতার কারণেই আল্লাহ তা আলাও নারী-পুরুষকে সবক্ষেত্রে সমান অংশ দেননি। আশা করি বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।



ইসলামে নারী পুরুষের অর্ধেক সম্পত্তি পায় কেন? | DWJalil.com

MA Jalil

জমি-জমা সংক্রান্ত যেকোনো দলিল তৈরির ক্ষেত্রে সামান্য একটি ভুলও ভবিষ্যতে বড় আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাই প্রতিটি ধাপেই আমি সর্বোচ্চ সতর্কতা, স্বচ্ছতা এবং পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কাজ করি।